“রক্ত দেই জীবন বাচাঁই” স্লোগানে এবারের ভালোবাসা দিবসে রক্ত দানই হোক ভালোবাসা বিনিময়ের কর্মসূচি” এসএসসি ০৯ এইচএসসি ১১ ব্যাচের মানবিক সংগঠন ফ্রেন্ডস পাওয়ার (বন্ধুত্বের শক্তি) এর এমনটাই প্রত্যাশা।
ফ্রেন্ডস পাওয়ার ব্লাড ব্যাংক সোশ্যাল গ্রুপের মাধ্যমে ২১ জন তরুণ এডমিন সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত রক্তের সন্ধান দেন। ফেসবুকভিত্তিক এই গ্রুপের রয়েছে ৫ হাজার সদস্য। ঢাকাসহ সারাদেশের অনেকেই রক্তের সন্ধান চান এই গ্রুপের মাধ্যমে। রক্তের সন্ধান দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনটি দুস্থদের শীতবস্ত্র, রমজানে ইফতার বিতরন, বন্যার্তদের মধ্যে ত্রান-সাহায্য, ক্যানসার রোগীদের আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে থাকে। সংগঠনের শতাধিক তরুণ রক্তযোদ্ধা নিয়মিত রক্তদান করে থাকেন। কোথাও কোনো অসুস্থ রোগীর জরুরি রক্তের প্রয়োজনে তাদের দৃষ্টি গোচর হলে ছুটে যান সংগঠনের সদস্যরা।
রক্তের গ্রুপ, পরিমাণ এক ব্যাগ, হাসপাতাল, তারিখ, সময় ও মুঠোফোন নম্বর দিয়ে রক্তের সন্ধান চেয়ে ফ্রেন্ডস পাওয়ার(বন্ধুত্বের শক্তি) ব্লাড ব্যাংক নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিলেই মুহূর্তেই জোগাড় হয়ে যায় রক্ত।
সংগঠনের এডমিন শ্রাবন আহমেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন বছর আগে যাত্রা শুরু এই সংগঠনের। যাত্রা শুরুর পর থেকেই প্রতিদিন রক্ত সরবরাহ করছেন সংগঠনের সদস্যরা। এভাবে গত ৩ বছরে অন্তত ৩ হাজার ব্যাগ রক্ত দিয়েছে সংগঠনটির সদস্যরা। তাঁদের কাছ থেকে রক্ত পেয়েছেন গর্ভবতী মা, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগী, ব্লাড ক্যানসার, কিডনি রোগী ও দুর্ঘটনার শিকার মানুষজন।
তিনি আরো বলেন, রক্ত দিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০২১ সালের নভেম্বর তাঁদের যাত্রা শুরু। সংগঠক হিসেবে ছিলেন আহমেদ শ্রাবণ, যায়ীমা যাহিন ঐশী, তন্নি আক্তার, প্রিয়াঙ্কা হামিদ, তারেক আলী, সাজ্জাদ সাইমন, রনি মাইজভান্ডারি, শাহাদাত হোসেন রিপন, হাফিজুল ইসলাম, সবুজ পাটোয়ারী, রাজু খান, ওসমান গনি, আফসানা রিয়াসহ আরও কিছু তরুণ তরুনী বন্ধুরা মিলে গড়ে তুলে মানবিক এই সংগঠনটি। সংগঠনটি ফেসবুক পেজ ও গ্রুপের মাধ্যমে কর্মকাণ্ড চালায়। সারা দেশেই এখন তাঁদের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এই নেটওয়ার্কে যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়মিত রক্তদান করে যাচ্ছেন সদস্যরা। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিংও করেন তাঁরা। এছাড়া রক্তের অন্যতম রোগ থ্যালাসেমিয়া নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
সংগঠনটির সদস্য ঢাকার বন্ধু তোফাজ্জল ও পলির ৮ বছরের কন্যা আদিবা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে নিয়মিত রক্ত দিতে হয়। একসময় রক্ত জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হতো। এখন আর সেই কষ্ট নেই। গত দুই বছর ধরে ফ্রেন্ডস পাওয়ার সংগঠনটির সদস্যরা প্রতি মাসে তাঁকে রক্ত দিচ্ছেন।
সমাজের অনেক তরুণ বাজে কাজে অযথা সময় নষ্ট করে। বিভিন্ন অপরাধেও জড়িয়ে যায় অনেকে। এদের সবার জন্য ফ্রেন্ডস পাওয়ার ( বন্ধুত্বের শক্তি) ব্লাড ফাউন্ডেশন উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে। আসুন ভালোবাসা দিবসকে রাঙিয়ে রাখি রক্তের বন্ধন তৈরী করে। রক্ত দেই, জীবন বাঁচাই।