মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চাঁদা না দেয়ায় ট্রাভেলস ব্যবসায়ীকে ছুঁড়িকাঘাত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দাবি, ছিনতাই ও মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ ইলিয়াস দেওয়ান (৪৪) থানায় মামলা করেছেন।
আসামীরা হলো- বলধারা ইউনিয়নের উত্তর পারিল গ্রামের আসাদুজ্জামান নুর মুক্তার (৪৮), মোস্তফা (৪২), ফয়সাল (২৪), যাহাদ (২১), রানা আহাম্মেদ (২০), আমতলা এলাকার শাহাদত (২৪), পারিল বৈদ্যপাড়ার আহাদ (১৯), কালাম (২৪), উত্তর পারিলের এখলাসুর বাবু (২২), মারুফ (২২), রামকান্তপুর এলাকার আব্দুল সামাদ নায়েম (২৬)সহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন।
গত ২৭ জানুয়ারী উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের পারিল-নওয়াধা বাজারে দেওয়ান ট্রাভেলসের সামনে ঘটনাটি ঘটে। ইলিয়াস দেওয়ান পারিল নওয়াধা গ্রামের নুরুল ইসলাম দেওয়ানের ছেলে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দেওয়ান ট্রাভেলসের মালিক ইলিয়াস দেওয়ানের কাছে বেশ কিছুদিন যাবৎ আসামী আসাদুজ্জামান নুর মুক্তারের কথামতো আসামীগণ ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামিগণ বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭ জানুয়ারী দুপুর ২ টার দিকে মুক্তারের নির্দেশে আসামীরা দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দোকানের সামনে এসে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা চায়। চাঁদার টাকা না পাইলে ১নং আসামির কথামতো দোকান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ৫নং আসামি একটি ধারালো চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর পিঠে আঘাত করলে গুরুতর আহত হয়। অন্য আসামীরা লোহার রড, কাঠের বাটাম, ইট দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে এবং উপর্যপুরি ঘুষি মেরে মারাত্মক হাড়ভাঙ্গা রক্তাক্ত জখম করে।
তবুও চাঁদার টাকা দিতে রাজি না হলে ইট দিয়ে বাম চোখ নষ্ট করে ফেলবে বলে আঘাতের উদ্যোগ নিলে চাঁদা দিতে রাজি হয়।আসামিরা দোকানে প্রবেশ করে ক্যাশ বাক্সে থাকা ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং বাকি টাকা ৭ দিনের মধ্যে না দিলে দোকান বন্ধ করে দিবে বলে জানায়। লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিগণ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল রেফার করে। পরবর্তীতে নাকে রক্তপাত হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
মামলার বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি খুব দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।